Q1. যদি 9 g জলে 1 g হাইড্রোজেন এবং 8 g অক্সিজেন থাকে, তবে 36 g জলে ________ থাকবে।
A. 4 g হাইড্রোজেন এবং 24 g অক্সিজেন
B. 3 g হাইড্রোজেন এবং 32 g অক্সিজেন
C. 4 g হাইড্রোজেন এবং 32 g অক্সিজেন
D. 3 g হাইড্রোজেন এবং 24 g অক্সিজেন
সঠিক উত্তর: C. 4 g হাইড্রোজেন এবং 32 g অক্সিজেন
রসায়নের স্থিরানুপাত সূত্র অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট যৌগের উপাদান মৌলগুলির ভরের অনুপাত সর্বদা একই থাকে। এখানে 9 গ্রাম জলে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ওজনের অনুপাত হলো 1:8। অর্থাৎ, 36 গ্রাম জলের ক্ষেত্রে:
- হাইড্রোজেনের পরিমাণ হবে গ্রাম
- অক্সিজেনের পরিমাণ হবে গ্রাম
1799 সালে ফরাসি রসায়নবিদ জোসেফ প্রাউস্ট এই স্থিরানুপাত সূত্রটি প্রদান করেন। আইসোটোপের উপস্থিতির কারণে কখনও কখনও এই সূত্রের সামান্য বিচ্যুতি দেখা যেতে পারে।
জলের আণবিক সংকেত H2O, যেখানে আয়তন হিসেবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 2:1 অনুপাতে থাকে। সমুদ্রের জল হোক বা বৃষ্টির জল, বিশুদ্ধ জলের নমুনায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত সর্বদা 1:8 হবে।
Q2. মানুষের অন্ত্রে শোষণের জন্য মূলত কোন ধরনের আবরণী কলা বিশেষভাবে কাজ করে?
A. সরল ঘনকাকার আবরণী কলা (Simple Cuboidal Epithelium)
B. সরল আঁইশাকার আবরণী কলা (Simple Squamous Epithelium)
C. সরল স্তম্ভাকার আবরণী কলা (Simple Columnar Epithelium)
D. স্তরীভূত আঁইশাকার আবরণী কলা (Stratified Squamous Epithelium)
সঠিক উত্তর: C. সরল স্তম্ভাকার আবরণী কলা
মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের অভ্যন্তরীণ স্তরে ‘সরল স্তম্ভাকার আবরণী কলা’ দেখা যায়। এই কোষগুলো লম্বা স্তম্ভের মতো হয়। এদের প্রধান কাজ হলো পরিপাক হওয়া খাদ্যের পুষ্টি উপাদান শোষণ করা এবং মিউকাস ক্ষরণ করা।
মাইক্রোভিলাই: এই স্তম্ভাকার কলার কোষগুলোর উপরিভাগে আঙুলের মতো ক্ষুদ্র প্রবর্ধক বা ‘মাইক্রোভিলাই’ থাকে, যা শোষণের তলদেশ অনেক বাড়িয়ে দেয়।
গবলেট কোষ: এই কলার মধ্যেই বিশেষ কিছু কোষ থাকে যাদের ‘গবলেট কোষ’ বলে; এগুলো মিউকাস ক্ষরণ করে অন্ত্রের পথ পিচ্ছিল রাখে।
হিস্টোলজি: কলা বা টিস্যু সংক্রান্ত পড়াশোনাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হিস্টোলজি’ বলা হয়।
বেসমেন্ট মেমব্রেন: সমস্ত আবরণী কলা একটি পাতলা ও অকোষীয় পর্দার ওপর সাজানো থাকে, যাকে ‘ভিত্তিপর্দা’ বলা হয়।
Q3. উদ্ভিদ প্রধানত ________ থেকে অতিমাত্রিক পরিপোষক পায় এবং ________ থেকে অল্প পরিমাণে স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক পায়।
A. মাটি; মাটি
B. জল; বালি
C. সূর্যালোক; খনিজ
D. বায়ু; জল
সঠিক উত্তর: A. মাটি; মাটি
উদ্ভিদ তার জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য মাটি থেকে মোট 13টি খনিজ উপাদান সংগ্রহ করে। এই উপাদানগুলোকে তাদের প্রয়োজনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, যার উভয় উৎসই হলো মাটি।
- অতিমাত্রিক পরিপোষক (Macronutrients): এগুলো উদ্ভিদ বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে। মাটি থেকে প্রাপ্ত এই উপাদানগুলো হলো— নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এবং সালফার (S)
- স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক (Micronutrients): এগুলো উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য অপরিহার্য হলেও খুব সামান্য পরিমাণে লাগে। যেমন— আয়রন (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), কপার (Cu), জিঙ্ক (Zn), বোরন (B), মলিবডেনাম (Mo) এবং ক্লোরিন (Cl)
Q4. যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রযুক্ত হলেও তার সরণ শূন্য হয়, তা হলে বস্তুটির উপর কৃতকার্য কত হবে?
A. ধনাত্মক
B. ঋণাত্মক
C. শূন্য
D. অসীম
সঠিক উত্তর: C. শূন্য
পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কৃতকার্য তখনই হয় যখন কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করার ফলে বস্তুটির কিছু সরণ (জায়গার পরিবর্তন) ঘটে।
কার্যের সাধারণ সূত্রটি হলো: কার্য = বল × সরণ
যেহেতু প্রশ্নে বলা হয়েছে বস্তুটির সরণ শূন্য, তাই বল যতই প্রয়োগ করা হোক না কেন, গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী: কার্য = বল × ০ = ০ (শূন্য)
সহজ কথায়, যদি বস্তুটি তার জায়গা থেকে না নড়ে, তবে বিজ্ঞানের ভাষায় কোনো কাজ বা কার্য করা হয়নি।
- কার্যহীন বল: যদি বল এবং সরণ একে অপরের সঙ্গে সমকোণে (90 ডিগ্রি) থাকে, তাহলেও কৃতকার্য শূন্য হয়। যেমন— মাথায় ঝুড়ি নিয়ে সমতল রাস্তায় হাঁটা (এখানে অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কোনো কাজ হয় না)।
- একক: কার্যের এসআই (SI) একক হলো জুল এবং সিজিএস (CGS) একক হলো আর্গ।
- ধনাত্মক কার্য: বল যেদিকে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সরণও যদি সেই দিকেই হয়।
- ঋণাত্মক কার্য: বল যেদিকে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সরণ যদি তার উল্টো দিকে হয় (যেমন ঘর্ষণ বলের ক্ষেত্রে)।
ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (CaCl2) এর সংকেত একক ভর সঠিকভাবে নির্ধারণ করার পদ্ধতিটি নিচে দেওয়া হলো:
Q5. নিচের কোন গণনাটি CaCl2 এর সংকেত একক ভর সঠিকভাবে নির্ধারণ করে?
A. Ca এর পারমাণবিক ভর + (Cl এর পারমাণবিক ভর ÷ 2) = 40 + 17.75 = 57.75 u
B. Ca এর পারমাণবিক ভর + Cl এর পারমাণবিক ভর = 40 + 35.5 = 75.5 u
C. Ca এর পারমাণবিক ভর + (2 × Cl এর পারমাণবিক ভর) = 40 + 71 = 111 u
D. Ca এর পারমাণবিক ভর × Cl এর পারমাণবিক ভর = 40 × 35.5 = 1420 u
সঠিক উত্তর: C. Ca এর পারমাণবিক ভর + (2 × Cl এর পারমাণবিক ভর) = 40 + 71 = 111 u
কোনো আয়নিক যৌগের সংকেত একক ভর বের করতে হলে ওই সংকেতে উপস্থিত প্রতিটি পরমাণুর পারমাণবিক ভরকে তাদের সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যোগ করতে হয়।
ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (CaCl2) এর ক্ষেত্রে:
- ক্যালসিয়াম (Ca): সংকেতে 1টি Ca পরমাণু আছে। ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক ভর = 40 u
- ক্লোরিন (Cl): সংকেতে 2টি Cl পরমাণু আছে। ক্লোরিনের পারমাণবিক ভর = 35.5 u
সংকেত একক ভর
Q6. প্রদত্ত বর্তনী চিহ্নটি কী নির্দেশ করে?
A. বন্ধ অবস্থায় থাকা সুইচ
B. একটি তার
C. একটি ব্যাটারি
D. পরিবর্তনশীল রোধ বা রিওস্ট্যাট
সঠিক উত্তর: D. পরিবর্তনশীল রোধ বা রিওস্ট্যাট
পরিবর্তনশীল রোধ (Variable Resistance/Rheostat): এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে কোনো বর্তনীতে রোধের মান কমিয়ে বা বাড়িয়ে তড়িৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর চিহ্ন হলো একটি আঁকাবাঁকা রেখা (রোধ) যার মাঝখান দিয়ে বা ওপর দিয়ে একটি তীর চিহ্ন থাকে।
Q7. জীবিত জীবের দেহ যে প্রক্রিয়ায় ঠিক সমরূপ দু’টি অংশে বিভক্ত হয় তাকে ______ বলা হয়।
A. মুকুলন
B. দ্বি-বিভাজন
C. বহু বিভাজন
D. খণ্ডীভবন
সঠিক উত্তর: B. দ্বি-বিভাজন

দ্বি-বিভাজন (Binary Fission) হলো এক প্রকার অযৌন জনন পদ্ধতি যেখানে একটি এককোষী জীব বিভাজিত হয়ে দুটি সমান এবং প্রায় সমরূপ অপত্য জীব তৈরি করে। এটি সাধারণত প্রতিকূল পরিবেশে বা স্বাভাবিক বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ঘটে।
Q8. কোন যোগ কলা কানের বাইরের অংশ, নাকের অগ্রভাগ এবং দীর্ঘ অস্থির প্রান্তভাগ গঠন করে?
A. শিথিল কলা
B. তরুণাস্থি
C. মেদ কলা
D. অস্থি
সঠিক উত্তর: B. তরুণাস্থি
তরুণাস্থি (Cartilage) হলো একপ্রকার বিশেষায়িত যোগ কলা যা অস্থির (Bone) মতো খুব শক্ত নয়, আবার পেশির মতো নরমও নয়। এটি স্থিতিস্থাপক এবং নমনীয় প্রকৃতির হয়।
- গঠন: তরুণাস্থি কোন্ড্রিন (Chondrin) নামক একপ্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। এতে ক্যালসিয়াম লবণের পরিমাণ অস্থির তুলনায় কম থাকে, তাই এটি সহজে বাঁকানো সম্ভব।
- অবস্থান: এটি আমাদের শরীরের কানের পিনা (বাইরের অংশ), নাকের ডগা বা অগ্রভাগ, শ্বাসনালী এবং দীর্ঘ অস্থির সংযোগস্থলে বা প্রান্তভাগে থাকে। এটি অস্থির সন্ধিস্থলে ঘর্ষণ কমাতে এবং ধাক্কা সহ্য করতে সাহায্য করে।
Q9. গাড়িতে পিছনের দৃশ্য দেখার দর্পণ হিসেবে ব্যবহৃত একটি উত্তল দর্পণের বক্রতার ব্যাসার্ধ 4.00 m এবং একটি বাস দর্পণটির সামনে 6.00 m দূরত্বে অবস্থিত। গঠিত প্রতিবিম্বের অবস্থান ও প্রকৃতি কেমন হবে?
A. প্রতিবিম্বটি দর্পণের পিছনে 1.2 m দূরত্বে গঠিত হয়
B. প্রতিবিম্বটি দর্পণের পিছনে 3.0 m দূরত্বে গঠিত হয়
C. প্রতিবিম্বটি দর্পণের সামনে 3.0 m দূরত্বে গঠিত হয়
D. প্রতিবিম্বটি দর্পণের পিছনে 1.5 m দূরত্বে গঠিত হয়
সঠিক উত্তর: D. প্রতিবিম্বটি দর্পণের পিছনে 1.5 m দূরত্বে গঠিত হয়।
পদার্থবিজ্ঞানের গোলীয় দর্পণের সূত্র ব্যবহার করে আমরা এটি সমাধান করতে পারি:
বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) = +4.00 m (উত্তল দর্পণের ক্ষেত্রে ধনাত্মক ধরা হয়)
বস্তুর দূরত্ব (u) = -6.00 m (দর্পণের সামনে বস্তু থাকায় চিহ্নের নিয়ম অনুযায়ী ঋণাত্মক)
ফোকাস দৈর্ঘ্য (f) নির্ণয়: ফোকাস দৈর্ঘ্য হলো বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক
f = R/2 = 4.00/2 = +2.00 m
দর্পণের সূত্র প্রয়োগ : এখানে v হলো প্রতিবিম্বের দূরত্ব
(1/v) + 1/(-6) = 1/2
⇒ (1/v) – (1/6) = (1/2)
⇒ 1/v = 1/2 + 1/6 = 2/3
⇒ v = 3/2 = 1.5 m
প্রতিবিম্বের অবস্থান: যেহেতু v-এর মান ধনাত্মক (+1.5 m), তার মানে প্রতিবিম্বটি দর্পণের পিছনে গঠিত হয়েছে।
প্রতিবিম্বের প্রকৃতি: উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সবসময় অসদ (Virtual), সমশীর্ষ (Erect) এবং আকারে বস্তুর চেয়ে ছোট (Diminished) হয়।
উত্তল দর্পণের ব্যবহার: এটি গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর হিসেবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি দর্পণের পিছনে একটি বিস্তৃত এলাকার (Wide field of view) সোজা প্রতিবিম্ব দেখাতে পারে।
Q10. অভিকর্ষ বলের প্রভাবে গতিশীল এবং উল্লম্বভাবে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে, গতির সমীকরণ প্রয়োগ করার সময় ত্বরণ (a) এর মান কেমন হবে?
A. গতির অভিমুখের উপর নির্ভরশীল নয়
B. ঋণাত্মক, কারণ এটির অভিমুখ প্রারম্ভিক গতির অভিমুখের বিপরীতে
C. ধনাত্মক, কারণ অভিকর্ষ ধ্রুবক
D. ধনাত্মক, কারণ এটি বেগের অভিমুখে থাকে।
সঠিক উত্তর: B. ঋণাত্মক, কারণ এটির অভিমুখ প্রারম্ভিক গতির অভিমুখের বিপরীতে
পদার্থবিজ্ঞানের চিহ্নের নিয়ম (Sign Convention) অনুযায়ী, কোনো বস্তুর প্রাথমিক গতির দিককে যদি ধনাত্মক ধরা হয়, তবে তার বিপরীত দিকের ভেক্টর রাশিগুলোকে ঋণাত্মক ধরতে হয়।
- গতির অভিমুখ: বস্তুকে যখন ওপরে নিক্ষেপ করা হয়, তখন তার প্রাথমিক বেগের (u) অভিমুখ থাকে ওপরের দিকে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণ (g): অভিকর্ষ বল সবসময় বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ নিচের দিকে টানে।
যেহেতু ত্বরণ (g) বেগের বিপরীত দিকে কাজ করছে, তাই এটি বস্তুর বেগকে ক্রমাগত কমিয়ে দেয় (মন্দন ঘটায়)। এই কারণে গতির সমীকরণে ত্বরণ (a)-এর মান -g (ঋণাত্মক) হিসেবে ধরা হয়।
Q11. একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে, 220 Hz কম্পাঙ্ক এবং 440 m/s দ্রুতি বিশিষ্ট একটি শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?
A. 0.5 m
B. 440 m
C. 2 m
D. 220 m
সঠিক উত্তর: C. 2 m
তরঙ্গ বিজ্ঞানের মূল সূত্র অনুযায়ী আমরা জানি: তরঙ্গের দ্রুতি (v) = কম্পাঙ্ক (n) × তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ)
এখানে দেওয়া আছে:
- কম্পাঙ্ক (n) = 220 Hz
- তরঙ্গের দ্রুতি (v) = 440 m/s
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ) = ?
সূতানুসারে: v = n × λ
⇒ λ = v/n
⇒ λ = 440/220 = 2 m
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength): একটি পূর্ণ তরঙ্গের দৈর্ঘ্যকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে। এর এসআই (SI) একক হলো মিটার।
- কম্পাঙ্ক (Frequency): প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে কম্পাঙ্ক বলে। এর একক হলো হার্টজ (Hz)।
- সম্পর্ক: কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে তরঙ্গের দ্রুতি স্থির থাকলে, কম্পাঙ্ক বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে এবং কম্পাঙ্ক কমলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়ে (ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক)।
- শব্দের বেগ: বায়ুতে শব্দের গড় বেগ ধরা হয় প্রায় 340-344 m/s, তবে এটি মাধ্যম ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তনশীল।
Q12. প্রদত্ত বিবৃতি সম্পর্কিত সঠিক বিকল্পটি চয়ন করুন।
বিবৃতি 1: প্রলম্বন আলোকরশ্মিকে বিচ্ছুরিত করে।
বিবৃতি 2: যখন কণাগুলি থিতিয়ে পড়ে, তখন তারা আর আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত করে না।
A. দুটি বিবৃতিই মিথ্যা
B. উভয় বিবৃতিই সত্য, কিন্তু বিবৃতি 2 সঠিকভাবে বিবৃতি 1 কে ব্যাখ্যা করে না
C. উভয় বিবৃতিই সত্য, এবং বিবৃতি 2 সঠিকভাবে বিবৃতি 1 কে ব্যাখ্যা করে
D. বিবৃতি 1 সত্য এবং বিবৃতি 2 মিথ্যা।
সঠিক উত্তর: C. উভয় বিবৃতিই সত্য, এবং বিবৃতি 2 সঠিকভাবে বিবৃতি 1 কে ব্যাখ্যা করে।
রসায়নের ভাষায় প্রলম্বন (Suspension) হলো একটি অসমসত্ত্ব মিশ্রণ যেখানে দ্রাবকের কণাগুলো বেশ বড় আকারের হয় এবং দ্রাবকে মিশে না গিয়ে ভেসে থাকে।
- বিবৃতি 1 (সত্য): প্রলম্বনের কণাগুলো আকারে বড় হওয়ায় (সাধারণত 100 ন্যানোমিটারের বেশি) তারা তাদের মধ্য দিয়ে যাওয়া আলোকরশ্মিকে বাধা দেয় এবং চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে টিন্ডাল প্রভাব (Tyndall Effect) বলা হয়। যার ফলে আলোকরশ্মির পথ দৃশ্যমান হয়।
- বিবৃতি 2 (সত্য): প্রলম্বন একটি অস্থায়ী মিশ্রণ। একে কিছুক্ষণ স্থিরভাবে রেখে দিলে ভারী কণাগুলো অভিকর্ষ বলের টানে পাত্রের নিচে থিতিয়ে পড়ে। কণাগুলো নিচে জমা হয়ে গেলে উপরে স্বচ্ছ দ্রাবক থেকে যায়, যার কণাগুলো আলো বিচ্ছুরণ করার মতো বড় থাকে না। ফলে তখন আর আলোক বিচ্ছুরণ ঘটে না।
Q13. যদি কোনো বস্তু সুষম বেগে গতিশীল হয়, তবে তার বেগ-সময় (velocity-time) লেখচিত্রটির উচ্চতা, সময়ের সাপেক্ষে স্থির থাকে। এর ফলে যে লেখচিত্রটি পাওয়া যায়, তা _______ হয়।
A. মূলবিন্দুর মধ্য দিয়ে যাওয়া সরলরেখা
B. x-অক্ষের সমান্তরাল সরলরেখা
C. বক্ররেখা
D. উল্লম্ব রেখা
সঠিক উত্তর: B. x-অক্ষের সমান্তরাল সরলরেখা
পদার্থবিজ্ঞানের গতির লেখচিত্রে x-অক্ষকে সময় (time) এবং y-অক্ষকে বেগ (velocity) হিসেবে ধরা হয়।
- সুষম বেগ (Uniform Velocity): সুষম বেগ মানে হলো সময়ের সাথে সাথে বস্তুর বেগের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। অর্থাৎ, সময় 1 সেকেন্ড, 2 সেকেন্ড বা 10 সেকেন্ড যাই হোক না কেন, বেগের মান (y-অক্ষের উচ্চতা) একই থাকে।
- লেখচিত্রের প্রকৃতি: যেহেতু বেগের মান বা উচ্চতা পরিবর্তিত হচ্ছে না, তাই লেখচিত্রটি একটি অনুভূমিক সরলরেখা তৈরি করে যা সময় বা x-অক্ষের সাথে সমান্তরাল।
- সুষম ত্বরণ (Uniform Acceleration): যদি কোনো বস্তু সুষম ত্বরণে চলে, তবে তার বেগ-সময় লেখচিত্রটি হবে মূলবিন্দুগামী একটি সরলরেখা (বিকল্প A)। এর অর্থ হলো সময়ের সাথে সাথে সমান হারে বেগ বাড়ছে।
- স্থির বস্তু (Object at Rest): যদি কোনো বস্তু স্থির থাকে, তবে তার বেগ হবে শূন্য এবং লেখচিত্রটি সরাসরি x-অক্ষের ওপর অবস্থান করবে।
- অতিক্রান্ত দূরত্ব: বেগ-সময় লেখচিত্র এবং সময় অক্ষের মধ্যবর্তী অঞ্চলের ক্ষেত্রফল (Area) বের করলে ওই সময়ে বস্তুটি কতটা দূরত্ব অতিক্রম করেছে তা জানা যায়।
- ত্বরণ: এই লেখচিত্রের নতি বা ঢাল (Slope) থেকে বস্তুর ত্বরণ নির্ণয় করা যায়। সুষম বেগের ক্ষেত্রে ঢাল শূন্য, তাই ত্বরণও শূন্য।
Q14. সংকর ধাতুর রোধাঙ্ক সাধারণত এর উপাদান ধাতুগুলির চেয়ে বেশি হয়, এবং এই ধর্মটি সংকর ধাতুকে ______ এর জন্য উপযুক্ত করে তোলে।
A. সার্কিট ফিউজ (যেমন, সীসা/টিনের সংকর)
B. গরম করার উপাদান (যেমন, নাইক্রোম)
C. সংযোগকারী তার (যেমন, তামার ট্রান্সমিশন লাইন)
D. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট (যেমন, টাংস্টেন)
সঠিক উত্তর: B. গরম করার উপাদান (যেমন, নাইক্রোম)
সংকর ধাতু (Alloy) তৈরি করা হয় দুই বা ততোধিক ধাতুর মিশ্রণে, যার ফলে এর ভৌত ধর্ম পরিবর্তিত হয়।
- উচ্চ রোধাঙ্ক (High Resistivity): সংকর ধাতুর রোধাঙ্ক বিশুদ্ধ ধাতুর তুলনায় অনেক বেশি। রোধ বেশি হওয়ার কারণে যখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তখন প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হয় (H = I2Rt সূত্র অনুযায়ী)
- জারণ রোধ: নাইক্রোম (নিকেল, ক্রোমিয়াম ও লোহার সংকর) এর মতো সংকর ধাতুগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় খুব সহজে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পুড়ে যায় না বা জারিত হয় না।
- প্রয়োগ: এই দুটি বিশেষ গুণের কারণেই ইলেকট্রিক হিটার, ইস্ত্রি বা গিজারের মতো বৈদ্যুতিক উত্তাপক যন্ত্রে গরম করার উপাদান (Heating Element) হিসেবে সংকর ধাতু ব্যবহার করা হয়।
Q15. সীমিত কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জৈব বিবর্ধন কেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
A. জৈব অভঙ্গুর কীটনাশকগুলি তাৎক্ষণিকভাবে শরীর থেকে নির্গত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
B. কীটনাশকগুলি শুধুমাত্র মাটির অণুজীবকে প্রভাবিত করে, উচ্চতর জীবকে প্রভাবিত করে না।
C. খাদ্য শৃঙ্খলের উপরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে কীটনাশকের বিষাক্ততা হ্রাস পায়।
D. জৈব অভঙ্গুর কীটনাশকগুলি ধারাবাহিক ট্রফিক স্তরে জমা হয়।
সঠিক উত্তর: D. জৈব অভঙ্গুর কীটনাশকগুলি ধারাবাহিক ট্রফিক স্তরে জমা হয়।
জৈব বিবর্ধন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পরিবেশের কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ (যেমন DDT বা পারদ) খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে এক স্তর থেকে উচ্চতর স্তরে যাওয়ার সময় ক্রমশ ঘন ঘনীভূত হতে থাকে।
- জৈব অভঙ্গুরতা: অনেক কীটনাশক প্রকৃতিতে সহজে মিশে যায় না বা জীবের বিপাক ক্রিয়ায় নষ্ট হয় না। এগুলো চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় প্রাণীর টিস্যুতে বা চর্বিতে জমা থাকে।
- ট্রফিক স্তরে জমা হওয়া: যখন একটি ছোট মাছ অনেকগুলো শৈবাল (যাতে সামান্য কীটনাশক আছে) খায়, তখন তার শরীরে সেই বিষ জমা হয়। আবার একটি বড় মাছ যখন অনেকগুলো ছোট মাছ খায়, তখন তার শরীরে বিষের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
- সর্বোচ্চ খাদক: মানুষ যেহেতু খাদ্য শৃঙ্খলের উপরের দিকে থাকে, তাই ফসলে খুব সামান্য কীটনাশক দিলেও তা মাছ বা মাংসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এসে মারাত্মক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
DDT-র প্রভাব: অতীতে মশা মারতে বা ফসলে প্রচুর পরিমাণে DDT ব্যবহৃত হতো। দেখা গেছে, জলে DDT-র পরিমাণ খুব কম থাকলেও মাছখেকো পাখিদের শরীরে তা কয়েক হাজার গুণ বেড়ে যেত, যার ফলে তাদের ডিমের খোসা পাতলা হয়ে যেত এবং বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হতো।
Q16. কনসার্ট হলগুলিতে বাঁকানো তল বিশিষ্ট ছাদ ব্যবহার করার মূল কারণ কী?
A. সুরবর্জিত শব্দ রোধ করা
B. শব্দকে সমানভাবে প্রতিফলিত করা
C. শব্দ শোষণ করা
D. প্রেক্ষাগৃহকে নান্দনিক করে তোলা
সঠিক উত্তর: B. শব্দকে সমানভাবে প্রতিফলিত করা
শব্দের প্রতিফলনের ধর্মকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় কনসার্ট হলের ছাদ বাঁকানো বা অবতল (concave) আকৃতির করা হয়।
- প্রতিফলন ও বিস্তরণ: ছাদ যখন বাঁকানো হয়, তখন মঞ্চ থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গ ছাদে ধাক্কা খেয়ে হলের সমস্ত কোণে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হলের একদম পিছনের সারিতে বসে থাকা শ্রোতাও শব্দ স্পষ্টভাবে শুনতে পান।
- ফোকাসিং: একটি সমতল ছাদ শব্দকে নির্দিষ্ট দিকে পাঠিয়ে দিতে পারে, কিন্তু বাঁকানো ছাদ শব্দকে হলের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি বড় প্রতিফলক (Reflector) হিসেবে কাজ করে।
Q17. টুথপেস্ট ক্ষারকীয় প্রকৃতির হয় কেন?
A. কারণ এটি লালারসের pH কমায় যা দাঁতের ক্ষয় রোধ করে
B. কারণ এটি জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন আয়ন মুক্ত করে
C. কারণ এটি লালারসের মধ্যে উৎসেচক ক্রিয়ার জন্য একটি আম্লিক মাধ্যম প্রদান করে
D. কারণ এটি খাবার খাওয়ার পর মুখে তৈরি অ্যাসিডকে প্রশমিত করে
সঠিক উত্তর: D. কারণ এটি খাবার খাওয়ার পর মুখে তৈরি অ্যাসিডকে প্রশমিত করে
আমাদের মুখে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো অ্যাসিড। টুথপেস্টের ক্ষারকীয় প্রকৃতি এই অ্যাসিডের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- অ্যাসিড তৈরি: আমরা যখন খাবার খাই (বিশেষ করে শর্করা বা চিনিযুক্ত খাবার), তখন মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া সেই খাবারকে ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে।
- pH এবং এনামেল: মুখের ভেতরের pH মান যখন 5.5 এর নিচে নেমে যায়, তখন দাঁতের বাইরের শক্ত আবরণ বা এনামেল ক্ষয় হতে শুরু করে।
- প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization): টুথপেস্ট প্রকৃতিগতভাবে মৃদু ক্ষারকীয় হওয়ায় এটি মুখের সেই ক্ষতিকারক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে তাকে প্রশমিত (Neutralize) করে দেয়। ফলে দাঁতের এনামেল রক্ষা পায়।
- উপাদান: টুথপেস্টে সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মতো মৃদু ক্ষারক ব্যবহার করা হয়।
- ফ্লোরাইড: অনেক টুথপেস্টে ফ্লোরাইড থাকে যা এনামেলকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং ব্যাকটেরিয়ার অ্যাসিড তৈরির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
- লালারসের ভূমিকা: আমাদের লালারসও কিছুটা ক্ষারকীয় প্রকৃতির, যা প্রাকৃতিকভাবেই অ্যাসিডকে প্রশমিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খেলে টুথপেস্টের সাহায্য প্রয়োজন হয়।
Q18. সাদৃশ্যবিধান করার জন্য উপযুক্ত বিকল্পটি চয়ন করুন।
নিউক্লিয়াস : ইউক্যারিওটিক কোশ :: নিউক্লিওয়েড : _______
A. প্রোক্যারিওটিক কোশ
B. বহুকোশী জীব
C. উদ্ভিদ কোশ
D. প্রাণী কোশ
সঠিক উত্তর: A. প্রোক্যারিওটিক কোশ
প্রশ্নটিতে প্রথম জোড়ায় একটি নির্দিষ্ট ধরণের কোশ এবং তাতে উপস্থিত বংশগত উপাদানের আধার দেখানো হয়েছে। সেই একই যুক্তি দ্বিতীয় জোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।
- ইউক্যারিওটিক কোশ (Eukaryotic Cell): এই উন্নত কোশগুলোতে একটি সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে, যা নিউক্লিয় পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে (যেমন—উদ্ভিদ ও প্রাণী কোশ)।
- প্রোক্যারিওটিক কোশ (Prokaryotic Cell): আদি বা অনুন্নত কোশগুলোতে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস বা নিউক্লিয় পর্দা থাকে না। এদের ডিএনএ (DNA) সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে থাকে, যাকে নিউক্লিওয়েড বলা হয়।
Q19. নিচের কোন পরিস্থিতিটি শূন্য ত্বরণ নির্দেশ করে?
A. সোজা রাস্তায় ধ্রুবক দ্রুতিতে চলমান একটি গাড়ি
B. উড্ডীনোন্মুখ একটি বিমান
C. উপরের দিকে ছোড়া একটি গোলক
D. দ্রুতি বাড়াতে থাকা একটি ট্রেন
সঠিক উত্তর: A. সোজা রাস্তায় ধ্রুবক দ্রুতিতে চলমান একটি গাড়ি
পদার্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ত্বরণ হলো সময়ের সাথে সাথে বেগের পরিবর্তনের হার। অর্থাৎ, বেগ পরিবর্তিত হলেই কেবল ত্বরণ সৃষ্টি হয়।
সুষম বেগ (Uniform Velocity): যখন একটি গাড়ি সোজা রাস্তায় ধ্রুবক (একই) দ্রুতিতে চলে, তখন তার বেগের মান এবং দিক—উভয়ই অপরিবর্তিত থাকে। যেহেতু বেগের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না, তাই এক্ষেত্রে ত্বরণ শূন্য হয়।
Q20. পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে মহাকর্ষবলের মান ‘F’ N হয়। তাদের মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, এই বলের মান কত হবে? (অন্যান্য সমস্ত পরামিতি অপরিবর্তিত রাখুন।)
A. F/4
B. 2F
C. F/2
D. 4F
সঠিক উত্তর: A. F/4
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল (F) তাদের মধ্যকার দূরত্বের (d) বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ: F ∝ 1/d²